আপনার তথ্য কেউ চুরি করছে না তো?

হ্যাঁ। এই লেখাটি যদি মোবাইলের মাধ্যমে পড়ে থাকেন তাহলে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে আপনার উচিত হবে , মোবাইলের সাথে সম্পর্ক ব্রেকাপ করে নতুন সম্পর্ক স্থাপন করা। অবাক হবার কিছু নেই! কেননা, আমাদের প্রত্যহ ২৪ ঘণ্টার অন্তত ৪ ঘণ্টা সময় কাটে মোবাইলের মাধ্যমে। আর যদি কথা বলার মতো দু-একজন পার্টনার থাকে, তাহলে তো কথা নেই।

http://www.asorfi.com

সংবাদ পড়া, বন্ধুকে টেক্সট দেওয়া থেকে শুরু করে গেইমস কিংবা কেনাকাটাতেও মোবাইল ফোন ব্যবহার করে থাকি। আর এসবের জন্য মুল্যবান পাওনা ও শোধ করতে হয়। মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারনে আমাদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ও ক্ষতি সাধন হচ্ছে।

মোবাইল ফোনের একটি উপকারী সুবিধা হচ্ছে “Push Notification”। কিন্তু অধিকাংশ সময় এই নোটিফিকেশন সুবিধাটি কাজ থেকে আমাদের মনোযোগকে সরিয়ে দেয়। ইতোমধ্যে, আমাদের শেয়ার করা ব্যক্তিগত তথ্য গুলাই আমাদের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, আর তা আমাদের অগোচোরেই।

আশাহত হবার কোন কারণ নেই। পাঁচটি স্টেপ গ্রহণ করেই আপনি আপনার মোবাইলের সাথে এই ক্ষতিকর সম্পর্কগুলো শেষ করতে পারেন।

  1. Adjust phone permissions

প্রাইভেসি রক্ষার জন্য প্রথমেই ফোনের এপ্স পারমিশনে কিছু পরিবর্তন আনুন। ভাল করে লক্ষ্য করুন আপনার ইন্সটল করা কোনও এপ্স অকারণে আপনার লোকেশন জানতে চাচ্ছে কিনা? যদি চায় তাহলে তা, এড়িয়ে চলুন।খুব গুরুতপূর্ন না হলে পার্মিশন দিবেন না। কিছু কিছু থার্ড পার্টি এপ্স আছে যেগুলো প্রয়োজন ছাড়াই আপনার ফটো কিংবা কন্টাক্ট পরতে চায়। সেগুলো এড়িয়ে চলুন। যখন আপনি এসব এপ্স ব্যবহার করবেন তখন এপ্স সেটিং থেকে “Push Notification” বন্ধ করে রাখতে পারেন। গুরুত্বপুর্ন না হলে অন করে রাখবেন না।

Location, photo, contacts এবং অন্যান্য পার্মিশন পরিবর্তন করার জন্য নিচের পদগতই অবলম্বন করতে পারেনঃঃ

  • iPhone: Settings > Privacy > Location Services (Scroll down for photos and more)
  • Android: Settings > Biometrics and Security > App permissions > Location

2. Change your phone’s name

আপনি কি ভেবে দেখেছেন যে, কেউ চাইলে আপনার অবস্থান জেনে নইতে পারে এবং আপনাকে জিজ্ঞেস না করেই। হ্যাঁ, আপনার সংযোগ হওয়া ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক থেকে আপনার নাম জেনে আপনাকে শনাক্ত করা সম্ভব। আর এই সমস্যা সমাধান করতে একটি ছোট্ট কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। আপনার ডিভাইসের নাম পরিবর্তন করে আপনার পছন্দের ফিকশন কিংবা ক্যারেক্টারের নামে রেখে দিন।

ডিভাইসের নাম পরিবর্তন করার জন্য;

  • iPhone: Settings > General > About > Name
  • Android: Settings > About Phone > Device Name

3. App cleanse

গত ছুটিতে একটি নতুন জায়গায় বেড়াতে যাওয়ার সময় আপনি হয়তো একটি ম্যাপ এপ ইন্সটল করে রেখেছেন। কিন্তু তা এখন শুধু শুধুই আপনার ফোনের জায়গা দখল করে রাখা ছাড়া আর কোন কাজে আসছে না। তাই এসকল এপ্স যেগুলো সব সময় কাজে আসেনা, সেগুলো ডিলিট বা আনইন্সটল করে দিন।

এইসকল এপ্স গুলো কিছু কিছু ক্ষেত্রে খুবই গুরুতপুর্ন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই কাজে আসেনা। তাই, ফোনের স্টোরেজ খালি রাখার জন্য এই এপ্স গুলো সরিয়ে রাখা যায়।

প্রথমে লক্ষ্য করুন যে, কোন এপ্স গুলো আপনার আর ব্যবহার হচ্ছে না।

অতঃপর, প্রতিটি এপ্সের একাউন্ট এবং Menu অপশনটি খোঁজ করুন। Privacy অথবা Security থেকে Personal Data অথবা History ডিলিট করুন। কিছু এপ্স আছে , ডিলিট করে দেওয়ার পরও আপনার তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে। তাই এপ্স ডিলিট করার পুর্বেই History ডিলিট করুন।

সবশেষে, একটি একটি করে ডিলিট করুন।

একবার অপ্রয়োজনীয় এপ্স গুলো ডিলিট করা হয়ে গেলে গুরুত্ব অনুসারে আপনার ফোনের হোম স্ক্রীন সাজিয়ে নিন। এভাবে আপনি আপনার সবসময় ব্যবহার করা গুরুতপুর্ন আপস গুলো আগে খুঁজে পাবেন।

4. Set your phone to grey

কখনো ভেবে দেখেছেন, কেনো আপনাকে অকারণেই বার বার আপনার ফোনের দিকে তাকাতে হয়? অবাক করা বিষয় হলেও সত্যি যে, শুধুমাত্র রঙের জন্য বেশিরভাগ লোক অকারণেই তাদের ফোনের দিকে বার বার তাকায়। উজ্জ্বল আর লাল বর্নের নোটিফিকেশান গুলো আপনার কাছে সবসময় গুরুতপুর্ন মনে হয়। কিন্তু আপনাকে বার বার অই সকল এপ্স গুলো ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার জন্য এটা হচ্ছে একটি উত্তম পন্থা।

ফোনের Grayscale ফিচারটি ব্যবহার করে খুব সহজেই আপনি এই ইঁদুরের গর্তে পড়ে যাওয়া থেকে রোকা পেতে পারেন।

  • iPhone: Settings > General > Accessibility > Display Accommodations> check Color Filters on > and tap on Grayscale
  • Android: Settings > Digital Wellbeing & Parental Controls > Wind Down > Grayscale

এটি একটি সাধারণ ট্রিক্স বলে মনে হলেও সত্যিই এটি কাজ করে। উজ্জ্বল বর্নগুলো সরিয়ে দিলে তা আপনাকে বার বার ফোন টিপা থেকে দূরে রাখবে।

5. Set usage goals to take a break

আমরা আমাদের ফোনগুলোকে এতটাই পছন্দ করি যে আমরা এদের ছাড়তে চাই না। কিন্তু নিজের ও ফোনের স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য হলেও একে একটু বিরতি দেয়া উচিত। ভেবে দেখুন, ঠিক কি কারনে আপনি ফোনটি ব্যবহার করেন। এবার ঠিক করুন যে কখন কখন আপনার ফোন ব্যবহার করা প্রয়োজন আর কখন কখন নয়। তারপর ব্যবহারের সময় অনুসারে সময় লিমিত সেট করে নিন।

  • iPhone: Settings > Screen Time > Downtime & App Limits
  • Android: Settings > Digital Wellbeing & Parental Controls > Dashboard > App Timer

ঘুমাতে যাওয়ার আগে কিংবা কাজের সময় ফোন ব্যবহার হতে বিরত থাকুন। কোন কোন সময় ফোন ব্যবহার করবেন না তার জন্য সীমানা নির্ধারণ করুন।

Pro tip: নোটিফিকেশানকে সরাসরি বন্ধ না করে লিমিট করে রাখুন। এতে করে গুুুুুরুত্বগুরুতপুর্ন নোটিফিকেশানগুলো মিস করবেন না।

2 thoughts on “আপনার তথ্য কেউ চুরি করছে না তো?

  • August 4, 2020 at 5:18 am
    Permalink

    I was suggested this blog by my cousin. I’m not sure whether this post is written by him as nobody else know such detailed about my difficulty.
    You’re amazing! Thanks!

    My web page; Buy CBD

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *